মানুষের মস্তিষ্কে বসানো হবে স্মার্ট চিপ – ৬ মাসের মধ্যেই বিপ্লব আসবে সারা দুনিয়ায়

সায়েন্স এবং প্রযুক্তির মধ্যে একটা সুস্পষ্ট পার্থক্য আছেই , এটা প্রায় আমরা সকলেই বুঝতে পারবো যে সায়েন্স মানে যেখানে আপনার ইন্টালিজেন্সি কাজ করে আর নতুন নতুন বিদ্যার আবিষ্কার হয়, আর অন্য দিকে প্রযুক্তির অর্থ হলো যেখানে আমাদের কোনো ফিজিক্যাল এলিমেন্টের সাপোর্ট প্রয়োজন। আর আমাদের বর্তমান সভ্যতা প্রযুক্তিগত উন্নতি এবং ব্যাবহারের ক্ষেত্রেই প্রগতিশীল যেখানে আমরা মেশিন ব্যাবহারেই বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছি।

কারা তৈরী করছেন এই চিপ ?

আর এইরকম একটা সময়ে সর্ব পরিচিত এলোন মাস্ক, যিনি কিছুদিন আগেই টুইটারের মালিকানা গ্রহণ করেন, তার সংস্থা নিউরোলিংক এখন এক বৈপ্লবিক আবিষ্কারের পথে অগ্রসর হয়েছে। যা জানলে আশ্চর্য হবেন প্রত্যেকেই, মনে মনে ভাববেন এও আবার হয় নাকি! হ্যাঁ এই সংস্থা ঘোষণা করেছে আগামী ছয় মাসের মধ্যে মানুষের মস্তিষ্কে বসানো হবে এক্সটার্নাল স্মার্ট চিপ। যা আরো উন্নত করবে মানুষের মস্তিষ্কের শক্তি , আসুন বিস্তারিত জানি কোথায় কিভাবে এই চিপ কাজ করবে।

কবে থেকে শুরু হবে ?

নিউরোলিংক জানিয়েছে যে এই স্মার্ট চিপ প্রস্তুতির কাজ প্রায় শেষের পথে, আর মাত্র ছয়মাসের মধ্যেই এই চিপটি ইমপ্লিমেন্ট করা হবে মানুষের মস্তিষ্কে। গবেষকরা জানিয়েছেন যে এই চিপটি প্রথমে বানরের উপরে পরীক্ষা করা হয়। যখন এই চিপটি বানরের মস্তিষ্কে সেটআপ করা হয় এবং চিপটির কানেকশন লিংক থাকে একটি কম্পিউটারের সাথে, আশ্চর্য ঘটনা দেখা যায় যে বানরটি খুব সহজেই কিবোর্ডে টাইপিং করতে শুরু করে। বেশ কিছুক্ষন পরীক্ষা চালানো হয়। এই সংস্থা পরীক্ষাটি সফল হয়েছে বলেই জানায়।

এই চিপটি ব্যাবহারের পর বা বেশ কিছুদিন পরেও এর কোনোরকম ক্ষতির আশঙ্কা আছে কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গবেষকরা জানিয়েছেন আর মাত্র ৬ মাসের মধ্যেই তারা চিপ ইম্প্লিমেন্টেশন চালু করে দেবেন।

এই চিপটি কিভাবে কাজ করবে ?

এই চিপটি মানুষের মস্তিষ্কে লাগানো হবে , তবে নিউরোলিংক জানিয়েছে যে এই চিপটি শরীরের যেকোনো জায়গায় লাগানো যেতে পারে। আর এই চিপটির লিংক থাকবে একটি কম্পিউটারের সাথে। তবে যাদের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা একেবারেই দুর্বল , অথবা কার্যক্ষমতা প্রায় হারিয়ে ফেলেছে তাদের ক্ষেত্রে এটি বিশেষ উপকারী হবে আসা করে যায়

এই স্মার্ট চিপ ইম্প্লিমেন্টেশন হওয়ার পর সভ্যতার আসলে প্রগতি হবে নাকি উল্টো ফল হবে আমরা কেউ জানিনা। প্রতিটা আবিষ্কারেরই ভালো খারাপ দুটি দিকই থাকে। কিন্তু গবেষণা এর আগেও কখনো থেমে থাকেনি আর আগামী দিনেও থামবেনা। মানুষ সর্বদাই ঝুঁকি নিতে পছন্দ করে। হয়তো এই আবিষ্কারের এক বিশেষ সাক্ষী হিসাবে আমরা এক নতুন পৃথিবী দেখবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Call Now Button